"কাজ বাচাঁতে নিজেদের জরায়ু কেটে ফেলছেন ভারতের আখ কাটার নারী শ্রমিকরা "
Tasfia Alam · 10/25/2026

ভোরের আলো ফোটার আগেই কর্মদিবস শুরু করতে হয় পূর্ণিমার। দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটকের প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকা রামানগরে ভোর চারটায় তাঁবু থেকে বেরিয়ে দিনের কাজের প্রস্তুতি নেন তিনি। ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের আশায় প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসেন তারা। পুরো ভারতে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ আখ কাটার কাজ করেন, যাদের বেশিরভাগই দিনে ১৪ ঘণ্টারও বেশি সময় শ্রম দেন। ব্রিটিশ গণমাধ্যম "দ্য ইনডিপেনডেন্ট"-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত মোট আখের প্রায় ১৬ শতাংশ আসে ভারত থেকে। কোকা-কোলা ও পেপসিকোর মতো বিশ্ববিখ্যাত কোমল পানীয় প্রস্তুতকারক জায়ান্ট কোম্পানিগুলো এখান থেকেই চিনি সংগ্রহ করে। তবে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, কর্মক্ষেত্রে পর্যাপ্ত টয়লেট ও সুপেয় পানির অভাবে নারী শ্রমিকদের স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে। এই নারী শ্রমিকদের সামনে কেবল দুটি পথ খোলা—হয় শারীরিক অসুস্থতার কারণে কাজে না গিয়ে মোটা অঙ্কের জরিমানা গোনা, না হয় শরীরের ক্ষতি করে কাজ চালিয়ে যাওয়া। নারী শ্রমিক এবং অধিকারকর্মীরা জানান, মাসিকের তীব্র ব্যথা ও গর্ভাবস্থাকালীন বিশ্রামের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয় না। পূর্ণিমা নামের এক নারী শ্রমিক বলেন, "কেউ যদি এই কষ্ট কিছুটা কমিয়ে দিত, তবে খুব উপকার হতো।" কষ্টের হাত থেকে বাঁচতে শেষ পর্যন্ত তিনি জরায়ু অস্ত্রোপচার (হিস্টেরেকটমি) করে ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সবিতা নামের আরেক নারী শ্রমিক শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে ২০২৫ সালে জরায়ু কেটে ফেলেছেন। এরপর থেকে তিনি নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। পুনেতে চিকিৎসা করাতে গেলে সেখানকার হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর শরীরে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়েছে। পূর্ণিমা আক্ষেপ করে বলেন, "আমাকে নিজের জরায়ু কেটে ফেলতে হচ্ছে; তা না হলে কাজের ব্যাঘাত ঘটবে এবং পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দিতে পারব না।" ২০১৯ সালে মহারাষ্ট্রের একটি সংস্থার জরিপে দেখা যায়, ৮২ হাজার ৩০৯ জন আখ কাটাই নারী শ্রমিকের মধ্যে ১৩ হাজার ৮৬১ জন জরায়ু অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। এদের মধ্যে ৪৫ শতাংশ নারী পরবর্তীতে মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক জটিলতায় ভুগছেন। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে বোম্বে হাইকোর্ট স্থানীয় সরকারকে এসব শ্রমিকের মৌলিক সুবিধা ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একাধিক নির্দেশনা জারি করেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে হালনাগাদ তথ্যসহ একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে মাঠপর্যায়ে কোনো স্বাস্থ্যসুবিধাই এখনো কার্যকর হয়নি।
Seller feedback
Loading feedback…
Ratings & reviews
Sign in to review products you have purchased.
Loading reviews…